আজ আমার বিয়ে। প্রচন্ড ধুমধামের সাথে বিয়ে হচ্ছে, ‘আমার’ বলা মনে হয় এখন আর যুক্তিযুক্ত হবেনা, বলতে হবে ‘আমাদের’। আজ থেকে তো আমি আর ‘আমি’ নই, হয়ে যাচ্ছি ‘আমরা’। অনেক ইচ্ছা ছিল খুব ছিমছাম, সাধারণ একটা বিয়ে করার। মসজিদে বিয়ে করে এলাকার যত এতিম-মিসকিন, অসহায় আছে তাদেরকে খাইয়ে দোয়া নেব, আমাদের যুগল জীবনের শুরুটা একটা ভাল কাজ দিয়ে শুরু করব; পুরোদস্তুর একটা সুন্নতি বিয়ে হবে। কিন্তু কি আর করার, সমাজ তো আর এই কেচ্ছার কথা শুনবে না, আমাদের আবেগ তো সমাজের কাছে অসহায়, তাই বাধ্য হয়েই সেজেগুজে শেরওয়ানি পরে এই ছাদনা তলায় বসে আছি। কাপড় যে এত ভারি হয় তা এটা না পরলে কোনদিন জানতেই পারতাম না! ওয়েট লস করার জন্য মনে হয়না আর জিমে যাওয়া লাগবে না, এটা পরে হাটাহাটি করলেই যথেষ্ট।একদিনের জন্য এত টাকার শেরওয়ানি কেনার কোন মানে হয়? এর সমপরিমাণ টাকা দিয়ে তো ১০ জন অসহায়কে জামাকাপড় কিনে দেওয়া যেত, পরতেও পারত অনেকদিন।

বিয়েবাড়িতে সবাই অনেক হাসিখুশি, বইছে খুশির আমেজ। সাজগোজ দেখে বোঝার উপায় নেই বিয়েটা আসলে কার। আমিও যে কম খুশি তা কিন্তু না, প্রথম বিয়ে বলে কথা! মনের ভিতর যতই উথাল পাথাল ঢেউ বয়ে যাকনা কেন, প্রকাশ করতে দেওয়া যাবেনা, চুপচাপ বসে থাকতে হবে। তবে এটা ভাবতেই ভাল লাগছে যে, আজকে আমার অর্ধানঙ্গীনীকে পেতে যাচ্ছি, একেবারে রেজিস্ট্রেশন করে। এতদিন ছিলাম অসম্পূর্ণ, আজ থেকে হব পূর্ণ । ভাবিনি কখনো আমাদেরও এমন একটা পরিণতি হবে। শুরুটা কিন্তু মোটেও এমন ছিলনা। আমার আর ওর আগে থেকেই পরিচয় ছিল, তবে বাসায় জানানোর সাহস ছিলনা। থাকবেই বা কি করে? আমাদের সমাজে তো ছেলে-মেয়ে একে অপরকে পছন্দ করা অসভ্যতামি, পাপ। লোকমুখে জানাজানি হলেও সমস্যা, আমি তো ছেলেমানুষ(!) কোন সমস্যা নেই, কিন্তু ও তো মেয়েমানুষ(!) ওর অনেক সমস্যা, অনেকে তো আবার ওকে দুঃশ্চরিত্রা বলতেও দ্বিধা করবে না।

সবার চোখ ফাকি দিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল; কিন্তু একবার হল সেই বিপত্তি, কিভাবে যেন ওর বাসায় জানাজানি হয়ে গেল। শ্বশুরমশাইয়ের ফোন, নাম্বার চিনতে মোটেই কষ্ট হয়নি; শ্বশুরের মেয়ের সাথে প্রেম করব আর শ্বশুরের নাম্বার সেভ থাকবেনা এটা কি হয়? ভাবলাম এবারই একটা হিল্লে হলো, কিন্তু ঘটল তার উলটো; এমনভাবে জামাই আদর পাবার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না, তার একমাত্র আদরের কণ্যার ত্রি সীমানায় আর ঘেঁষা যাবেনা। ১৪৪ ধারা জারি হয়ে গেল, কারো সাথে কোন কথা নেই, পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন। দুঃশ্চিন্তায় রাতে আর ঘুম আসেনা।

আমাদের দেশে অভিভাবকদের মনস্তত্ত্ব বোঝা খুবই কঠিন, যার সাথে প্রেম করবে তাকে ছাড়া পৃথিবীর যে কারোর সাথেই বিয়ে দেওয়া যাবে, তাকে মেনে নিতেই যত সমস্যা। কোথায় যেন একটা এলার্জি আছে। কেন বাপ? এত সমস্যা কেন? বিয়ে তো দিবেনই তাহলে সেখানে ছেলেটা আমি হলে সমস্যা কোথায়? আমি কি চোর না ডাকাত? এক অর্থে অবশ্য চোর বলা যায়, মনচোরা। তাই বলে চুরি করার জন্য এতবড় শাস্তি দেওয়া কি ঠিক? মেনে নিলাম ভূল হয়েছে, তাই বলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড? এটাতো অবিচার, শুনেছি খুনের আসামীদেরকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়, আমি তো খুন করিনি, ভালবেসেছি।

ভাবছেন এত কিছুর পরেও ছাদনা তলায় আসলাম কিভাবে? হাঃ হাঃ হাঃ সে এক লম্বা ইতিহাস। কথায় আছে না- “মিয়া-বেটি রাজি তো কেয়া কারেগা কাজী?” আমাদেরও সেই একই অবস্থা। এই যা, কাজীর নাম নিতে নিতেই কাজী সাহেব হাজির। এতক্ষণে উকিল বাপ, স্বাক্ষী সবকিছুই ঠিক হয়ে গেছে; কাজী সাহেবের লেখালেখি, দস্তখতও শেষ। উকিল বাপ বলা শুরু করলেন – “অমুক এলাকা নিবাসী, অমুকের একমাত্র কন্যা, অমুকের সহিত, এত টাকা নগদ দেনমোহর ধার্য করিয়া  আপনার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হইতেছে; আপনি কি রাজি আছেন? রাজি থাকলে বলুন ‘কবুল’। কি আশ্চর্য! রাজি না থাকলে কি আর এত আয়োজন করে সং সেজে বসে থাকি! এজলাসে আসামিদেরকে দন্ডিত করার আগে কাঠগাড়ায় তাদের মুখ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়, আমারো কি তাহলে সেই স্বীকারোক্তিই নেওয়া হচ্ছে? অনেকে বলে যে বিবাহিত জীবন নাকি কারাগার, তাহলে কি এটাই সেই কারাগারে পাঠানোর প্রথম ধাপ? সামনে সমুহ বিপদের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু এখন আর পালাবার কোন পথ নেই,  শেষ পর্যন্ত তিনবার ‘কবুল’ বলে আমি আমার স্বীকারোক্তি দিলাম। উপস্থিত সবাই ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলে পরম করুণাময়ের কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করলেন। আমার অবশ্য ওর কথা ভেবে কিঞ্চিৎ দুঃখ লাগছে, আবার হাসিও পাচ্ছে; আবহমান বাংলার চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে মেয়েরা একটু সময় নিয়ে ‘কবুল’ বলবে, দুঃখ দুঃখ ভাব নিয়ে বসে থাকবে, তবে একটু কান্নাকাটি করলে সবচেয়ে ভাল হয়। অনেক জায়গায় দাদি-নানীরা আগে থেকেই শিখিয়ে রাখে যেন একবারেই ‘কবুল’ না বলে দেয়, একটু সময় নেয়। মন খারাপ করুক বা নাই করুক বেহায়ার মত একবারে ‘কবুল’ বলে দিলে সবাই কি ভাববে! ভাববে, মেয়েটা লাজ লজ্জার মাথা খেয়েছে একেবারে। আমার পরিচিত একজন একবার বলার সাথে সাথেই কবুল বলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশে বিরাট হৈচৈ পড়ে গেল, ২ বাচ্চার মা হয়ে গেছে কিন্তু এখনো তাকে নিয়ে সবাই মশকরা করে। ওর ক্ষেত্রে এমন হবার কোন সম্ভাবনা নেই, ও এমনিতেই একটু লাজুক, একবারে কখনোই কবুল বলবে না; তবুও কেউ কিছু শিখিয়ে দিয়েছিল কিনা কে জানে!

বিবাহ তো সম্পন্ন হল, এখন বিদায় নেবার পালা। এই সময়টাতে বাড়িতে কান্নার ঢল নামে, মা-চাচী সবাই একসাথে; মাঝে মাঝে এই প্রভাব আবেশ প্রক্রিয়ায় বাপ-চাচার উপরও পড়ে, তবে তা খুবই সামান্য। বিদায়ের শেষ পর্বটা বাবাই সম্পন্ন করে থাকে। শ্বশুর আব্বা আমার হাতের উপর ওর হাতটা রাখল (এটাই আমাদের এতদিনের পরিচয়ের প্রথম স্পর্শ। হাতটা ক্রমশ ভারি হয়ে উঠল, এ যে এক বিশাল ভার, এক পবিত্র দায়িত্ব), বলল –“বাবা, আমার মেয়েটা খুব আদরের, ছোটবেলা থেকে ওর কোন আবদার অপূর্ণ রাখিনি, কখনো চোখ গরম করে কথা বলিনি, কষ্ট দেইনি; তোমার হাতে আমার কলিজার টুকরাকে তুলে দিচ্ছি, তুমি ওকে দেখে রেখ, কখনো কষ্ট দিওনা…” (শ্বশুরের চোখে ছলছলে জল) । মেয়েরা বাবার কাছে সবচেয়ে বেশি আদরণীয় হয়, ভালবাসার হয়। আর যেখানে ভালবাসা বেশি সেখানে শঙ্কাও বেশি; আর তাই প্রত্যেক বাবাই একটা নির্ভরশীলতার হাত খোঁজে। মেয়েটার পদচারণায় যে ঘর মুখরিত হয়ে উঠত, যে মেয়েটার প্রতিটি কথা দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হত, সেই মেয়েটা আজ বাড়িতে থাকবেনা, এই চরম সত্যটা মেনে নেওয়া এতটা সহজ নয়। একজন বাবার এই আবেগ আমি বুঝি। তবে, এই হাতে তুলে দেওয়া বিষয়টাতে আমার চরম আপত্তি। ও কি কোন বস্তু, নাকি সম্পত্তি যে আমার হাতে তুলে দিতে হবে? এটাতো পুরোদস্তুর একটা মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। আমিও মানুষ, ও ও মানুষ; এখানে তুলে দেবার কি হল! গবাদিপশু কেনাবেচার সময় দেখি বিক্রেতা ক্রেতার হাতে দড়ি হস্তান্তর করে; কারন গবাদিপশুর কোন বোধশক্তি নেই, তাকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে, নারী তো মানুষ বৈ অন্য কিছু না, তাকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়বে কেন? তাকে কেন অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে? এটাতো একটা নারীর জন্য চরম অবমাননাকর বিষয়। যাইহোক, এমন আবেগঘন পরিবেশে কি বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা, আস্তে করে বললাম – “ঠিক আছে আব্বা, কথা দিচ্ছি আপনার মেয়ে আমার কাছে ভালই থাকবে। (বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল, আপনার কলিজার টুকরা তো আমারো কলিজার টুকরা; কিন্তু মুরব্বিদের সামনে কি আর সেটা বলা যায়(!) হাজার হলেও নতুন জামাই বলে কথা)”। শ্বশুরমশাই খুবই আশ্বস্ত হলেন, চোখেমুখে একটু প্রশান্তি দেখতে পেলাম। সমাজের রীতিনীতিগুলো আসলেই অনেক জটিল। এটা কি সেই মানুষ, যে কিনা আমাকে কয়েকদিন আগে তার মেয়ের ধারেকাছে ঘেষতেই নিষেধ করেছিল! কয়েক মিনিট আগেও যার সাথে দেখা স্বাক্ষাৎ, এমনি কথাবলাও অন্যায় ছিল, অপরাধ ছিল; কয়েক মিনিট ব্যবধানে তাকেই ভালবাসা, তার সাথে কথা বলা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে গেল(!), ভালবাসা ছিল পাপ আর এখন সেটা পূণ্য! বিচিত্র সব মানুষ, বিচিত্র তার রীতিনীতি।

বাসর রাত, একটু নার্ভাস লাগছে; তবে যতই নার্ভাস লাগুক না কেন সেটা প্রকাশ করতে দেওয়া যাবে না। বন্ধুদের কাছে শুনেছি বাসর রাতে বিড়াল মারার কথা, আমাকেও মারতে হবে, কোনভাবেই মিস করা যাবেনা; বিড়াল না মারলে জীবন নাকি বরবাদ! বন্দোবস্ত আগেই করে রেখেছি, আমাদের বাসার কালো হুলো বিড়ালটাকে সকালেই বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে বস্তাবন্দি করে খাটের তলায় রেখে গিয়েছি।  সুযোগ পেলেই কাজটা সেরে ফেলতে হবে। তবে তার আগে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে ও কে একটু স্বাভাবিক করতে হবে। সারাদিন কান্নাকাটি করে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে, খাওয়াদাওয়াও করেনি ঠিকমত।

আমার একটা ভাল গুন হচ্ছে আমি যে কাউকেই সিরিয়াস মুড থেকে ফান মুডে নিয়ে আসতে পারি। এখানেও সেই গুনটিই এপ্লাই করতে হবে। এক কাজ করা যায়, চকলেট ওর পছন্দের, কিছু চকলেট নিয়ে গেলে মন্দ হয়না। একটা কিটক্যাট আর একটা ডেইরি মিল্ক হাতে নিয়ে ঘরে গেলাম। ও বিছানার উপর ঘোমটা টেনে বসে আছে। আশেপাশে যারা ছিল সবাই চলে গেল। দরজা বন্ধ করে দিলাম, ঘরে শুধু আমি আর ও।

: (হাত বাড়িয়ে) কিটক্যাট খাবা?

: (ঝাপটা দিয়ে ঘোমটা ফেলে দিয়ে) এতক্ষণে তোমার আসার সময় হল? দাও।

: আরে আরে… করছ কি? ঘোমটাটা খুলে ফেললে কেন? বাংলা সিনেমায় দেখনি নায়িকা বিছানার উপর ঘোমটা টেনে বসে থাকে আর নায়ক এসে ঘোমটা খুলে চিবুকে হাত দিয়ে মাথাটা একটু উচু করে বলে –‘অপূর্ব’। কি রোমান্টিক একটা বিষয়!

: রাখো তোমার রোমান্টিকতা। চকলেট দাও। বিকাল থেকে ক্ষুধায় অস্থির হয়ে আছি।

: (এগিয়ে দিলাম)

: কি ব্যাপার? হাত কাঁপছে কেন? নার্ভাসনেস নাকি ভয়?

: ইয়ে… মানে… কই হাত কাঁপছে? আমি ভীতু নাকি যে ভয় পাব? একটু নার্ভাস, তবে সমস্যা না; প্রথমবার তো তাই, পরের বার ঠিক হয়ে যাবে। (মুখে স্ফীত হাসি)

: কি বললে? প্রথমবার মানে? তার মানে তুমি… ছিঃ ছিঃ ছিঃ এই ছিল তোমার মনে? সব পুরুষই এক।

: আরে আমিই বা কি করলাম, আর পুরুষ জাতিই বা কি করল? (নাহ, এতো দেখি বিপদ! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিড়ালটার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। খাটের নিচে একটু দৃষ্টিপাত করলাম।)

: কি করলে কিছুই বোঝনি? কচি খোকা, তাইনা? শোন, এতদিন যা করেছো ঠিক আছে, এখন থেকে আর না। তোমার জীবনে মেয়েমানুষ বলতে একজনই এবং সেটা আমিই। মাথায় ঢুকেছে?

: তুমি ছাড়া মেয়েমানুষ বলতে আমার জীবনে তো আগেও কেউ ছিলনা। (ব্যাপারটাতো ঠিক সুবিধার মনে হচ্ছেনা, যে মেয়ে কথাই বলত না, সে কিনা বাসর রাতেই ঝগড়া শুরু করে দিল, এখনই খবরদারি! কয়দিন পরে কপালে কি যে আছে! (খাটের নিচে তাকালাম))

: নিচে কি দেখ?

: না, কিছু না।

: আচ্ছা, কড়া লিকার দিয়ে ১ কাপ চা করে নিয়ে আসো।

: আমি??? এই মধ্যরাতে??? কোথায় কি আছে আমি তো কিছুই জানিনা।

: ঢং করো নাতো! তোমার বাড়িতে তুমি জানোনা তাহলে জানবে কে, আমি?

: ঠিক আছে, যাচ্ছি। দেখি কিছু পাই কিনা।

(খানিক বাদে চা হাতে রুমে প্রবেশ। ও এইফাকে ফ্রেশ হবার জন্য বাথরুমে গেছে। এটাই সুযোগ। বিড়ালটার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। একি!!! বিড়াল কই!!!)

: কি দেখছো? ওহ! ওটা? হাঃ হাঃ হাঃ, ওটাকে আমিই সাইজ করে দিয়েছি, তোমার কষ্ট করা লাগবে না। চা হয়েছে?

: হ্যা, হয়েছে। এইযে, নাও।

: ওয়াক! এটা কি বানিয়েছ? এর থেকে তো শরবত ভাল। (কাপ হাতে কিচেনের দিকে প্রবেশ)

(কিছুক্ষণ পরে চা হাতে রুমে)

: এই নাও চা, খেয়ে দেখো।

: আমি সাধারণত চা/কফি খাই না, আর রাতে তো খাই ই না।

: যেটা বলছি সেটা শোনো।

: আচ্ছা। (ও চায়ের কাপ বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। চুমুক দিলাম। অসাধারণ!!! অনন্য তার স্বাদ! এত স্বাদের চা এই প্রথম খেলাম।)

: কেমন হয়েছে?

: এটা কি তুমি বানিয়েছ?

: আমি ছাড়া কে বানাবে?

: অনেক সুন্দর হয়েছে। এবার থেকে মনে হয় চা খাওয়ার অভ্যাসটা করেই ফেলতে হবে। অবশ্য তুমি যদি বানিয়ে দাও।

: কেন দেবনা? তোমার ভাল লেগেছে আর আমি দেবনা তা কি হয় বলো! প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তুমি  এককাপ গরম চা পেয়ে যাবে।

: না, আমরা দুজনে একসাথে চা বানাব।

: যথা আজ্ঞা।

: (ব্যাপার কি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা। হঠাৎ কথায় এমন ছন্দপতন!)

: হাঃ হাঃ হাঃ চমকে গেছ? এতক্ষণ যেটা ছিল সেটা তোমার জন্য সারপ্রাইজ, বাসর রাতে আমার প্রথম প্ল্যান এটা।

: তাও ভাল, আমি তো সত্যি সত্যি চমকেই গিয়েছিলাম। রাতারাতি একটা মানুষের এত পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব!!!

: আচ্ছা! তোমার কোন প্ল্যান নেই?

: ছিল বৈকি!

: বলছ না যে!

: তুমি আমি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সারারাত নফল নামাজ পড়ব, আল্লাহর কাছে দোয়া চাইব।

: সত্যি! আরে, এটা তো আমার ২য় প্ল্যান। (চোখে মুখে প্রশান্তির হাসি)

: আলহামদুলিল্লাহ্‌, চলো শুরু করি। (আমি ওযুর প্রস্তুতি নিচ্ছি, ও জায়নামাজ বিছাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে দুজন নামযে দাঁড়িয়ে গেলাম। ফাঁকে ফাঁকে কোরান তেলাওয়াতও চলছে…)

.

.

.

(দূরে ফজরের আযান শোনা যাচ্ছে)

: সকাল হয়ে গেছে।

: হুম।

: যাও, মসজিদে যেয়ে জামাতে সালাত আদায় করে এসো।

: আচ্ছা। তুমিও সালাত আদায় করে প্রস্তুত থেকো। বাইরে ঘন কুয়াশা, মসজিদ থেকে ফিরে হাঁটতে বের হব। শিশির ভেজা ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটতে আমার খুব ভাল লাগে। দুজনে একসাথে ঊষা দেখব। আমাদের নতুন জীবনের পথচলাটাও শুরু হোক এমন একটা নতুন ভোরের মত।

: (স্মিত হাসি) ঠিক আছে, এই নাও তোমার টুপি।

: (টুপি নিয়ে মসজিদের দিকে রওনা দিলাম।)